বাংলাদেশের বর্তমান তেলের দাম ২০২৬: ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের নতুন দাম
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়েছে। ২০২৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের বাজারে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। সরকার চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা করে বৃদ্ধি করেছে।

এর ফলে গাড়িচালক, পরিবহন ব্যবসায়ী, কৃষক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি খরচের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ও পণ্য পরিবহন ব্যয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বর্তমান তেলের দাম ২০২৬, কোন তেলের দাম কত বেড়েছে, কেন দাম বাড়ানো হয়েছে এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব—সবকিছু সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
বর্তমানে বাংলাদেশে তেলের দাম কত?
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর নতুন খুচরা দরের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| জ্বালানি তেল | আগের দাম | বর্তমান দাম | বৃদ্ধি |
|---|---|---|---|
| ডিজেল | ১১৫ টাকা/লিটার | ১৩৫ টাকা/লিটার | ২০ টাকা |
| কেরোসিন | ১৩৫ টাকা/লিটার | ১৫৫ টাকা/লিটার | ২০ টাকা |
| পেট্রোল | ১৪০ টাকা/লিটার | ১৬০ টাকা/লিটার | ২০ টাকা |
| অকটেন | ১৪৫ টাকা/লিটার | ১৬৫ টাকা/লিটার | ২০ টাকা |
সরকারের ২০ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
এক নজরে বর্তমান তেলের দাম
- ডিজেল: ১৩৫ টাকা/লিটার
- কেরোসিন: ১৫৫ টাকা/লিটার
- পেট্রোল: ১৬০ টাকা/লিটার
- অকটেন: ১৬৫ টাকা/লিটার
অর্থাৎ বর্তমানে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের মধ্যে অকটেনের দাম সবচেয়ে বেশি, আর ডিজেলের দাম সবচেয়ে কম।
ডিজেলের বর্তমান দাম কত?
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৫ টাকা।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ডিজেলের দাম ছিল ১১৫ টাকা। নতুন সিদ্ধান্তে এক লাফে ২০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি লিটারে দাম প্রায় ১৭.৪ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশের পরিবহন, কৃষি ও বিভিন্ন শিল্প খাতে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। তাই ডিজেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত গাড়িতে সীমাবদ্ধ থাকে না; পণ্য পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়ের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
অকটেনের বর্তমান দাম কত?
বর্তমানে প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১৬৫ টাকা।
আগে অকটেন বিক্রি হয়েছে ১৪৫ টাকা লিটারে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে প্রতি লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অকটেন সাধারণত ব্যক্তিগত গাড়ি ও বিভিন্ন পেট্রোলচালিত যানবাহনে ব্যবহৃত হয়। ফলে অকটেনের দাম বাড়ায় ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীদের জ্বালানি খরচও বৃদ্ধি পাবে।
পেট্রোলের বর্তমান দাম কত?
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১৬০ টাকা।
আগের দাম ছিল ১৪০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পেট্রোলের দাম বাড়ার ফলে মোটরসাইকেলসহ পেট্রোলচালিত যানবাহনের নিয়মিত জ্বালানি ব্যয় বাড়তে পারে।
কেরোসিনের বর্তমান দাম কত?
বর্তমানে প্রতি লিটার কেরোসিনের দাম ১৫৫ টাকা।
আগে কেরোসিনের দাম ছিল ১৩৫ টাকা। নতুন সিদ্ধান্তে দাম ২০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
কেরোসিনের ব্যবহার আগের তুলনায় কমলেও দেশের কিছু পরিবার ও বিভিন্ন কাজে এখনো এর ব্যবহার রয়েছে।
কেন বাংলাদেশে তেলের দাম বাড়ানো হলো?
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এবং ফ্রেইট বা পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জ্বালানি তেলের বড় একটি অংশ আমদানি করে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম, আমদানি ব্যয়, পরিবহন ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার—এসব বিষয় দেশের বাজারের দামে প্রভাব ফেলতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের তেলের দামের সম্পর্ক
বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের খুচরা মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে জাহাজভাড়া, বীমা, পরিবহন ও অন্যান্য আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেলে দেশে জ্বালানি তেলের মোট খরচও বাড়ে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যতটা বাড়ে, বাংলাদেশের খুচরা দাম ঠিক একই অনুপাতে বাড়বে—এমন নয়। কারণ খুচরা মূল্যের ক্ষেত্রে কর, শুল্ক, পরিবহন, বিপণন এবং সরকারের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় আসে।
তেলের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
জ্বালানি তেল অর্থনীতির প্রায় সব ক্ষেত্রের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। তাই তেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব বিভিন্ন পর্যায়ে দেখা যেতে পারে।
১. পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে
ডিজেল ও পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির কারণে বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহনের পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে।
এর ফলে ভবিষ্যতে পরিবহন ভাড়া নিয়ে চাপ তৈরি হতে পারে।
২. পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়তে পারে
এক জেলা থেকে অন্য জেলায় পণ্য পরিবহনে ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন ব্যবহৃত হয়। জ্বালানি খরচ বাড়লে পরিবহনকারীদের পরিচালন ব্যয়ও বাড়তে পারে।
এর প্রভাব পণ্যের সরবরাহ খরচে পড়তে পারে।
৩. বাজারদরে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা
পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষিপণ্য, খাদ্যপণ্য, নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ ব্যয় বাড়তে পারে।
তবে কোনো পণ্যের দাম কতটা বাড়বে তা শুধু জ্বালানি তেলের দামের ওপর নির্ভর করে না। উৎপাদন, সরবরাহ, চাহিদা, আমদানি ব্যয় এবং বাজার পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ।
৪. কৃষি খাতে বাড়তি চাপ
কৃষিকাজে সেচ পাম্প, ট্রাক্টর ও অন্যান্য যন্ত্রপাতিতে জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে।
৫. শিল্প ও ব্যবসায় প্রভাব
বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান সরাসরি জ্বালানি ব্যবহার করে অথবা জ্বালানি-নির্ভর পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ফলে জ্বালানি ব্যয় বাড়লে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
২০২৬ সালে এর আগে তেলের দাম কত ছিল?
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছিল। তখন ডিজেল ছিল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটার।
এরপর ২০ সেপ্টেম্বর নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয় এবং ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দামই ২০ টাকা করে বৃদ্ধি পায়।
বর্তমান ও আগের দামের তুলনা
| তেলের নাম | আগের দাম | নতুন দাম | কত বেড়েছে |
|---|---|---|---|
| ডিজেল | ১১৫ টাকা | ১৩৫ টাকা | ২০ টাকা |
| কেরোসিন | ১৩৫ টাকা | ১৫৫ টাকা | ২০ টাকা |
| পেট্রোল | ১৪০ টাকা | ১৬০ টাকা | ২০ টাকা |
| অকটেন | ১৪৫ টাকা | ১৬৫ টাকা | ২০ টাকা |
অর্থাৎ চার ধরনের জ্বালানি তেলের প্রতিটিতেই লিটারপ্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
১০ লিটার তেল কিনতে এখন কত টাকা লাগবে?
বর্তমান দরে হিসাব করলে:
- ১০ লিটার ডিজেল = ১,৩৫০ টাকা
- ১০ লিটার কেরোসিন = ১,৫৫০ টাকা
- ১০ লিটার পেট্রোল = ১,৬০০ টাকা
- ১০ লিটার অকটেন = ১,৬৫০ টাকা
আগের দরের তুলনায় ১০ লিটার প্রতিটি জ্বালানি কিনতে ২০০ টাকা বেশি লাগবে।
২০ লিটার তেলের বর্তমান দাম
বর্তমান খুচরা দরে:
- ২০ লিটার ডিজেল = ২,৭০০ টাকা
- ২০ লিটার কেরোসিন = ৩,১০০ টাকা
- ২০ লিটার পেট্রোল = ৩,২০০ টাকা
- ২০ লিটার অকটেন = ৩,৩০০ টাকা
বাংলাদেশের তেলের দাম ভবিষ্যতে কি আবার বাড়বে?
ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে বা কমবে—এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
কারণ আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজার, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয়, জাহাজভাড়া, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর জ্বালানি তেলের দাম নির্ভর করতে পারে।
তাই পরবর্তী সময়ে সরকার নতুন কোনো মূল্য সমন্বয় করলে বর্তমান দাম পরিবর্তিত হতে পারে।
সাধারণ মানুষের জন্য কী করণীয়?
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সময়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে জ্বালানি ব্যবহারে কিছুটা সাশ্রয় করা যেতে পারে।
- অপ্রয়োজনীয় গাড়ি ব্যবহার কমানো
- নিয়মিত গাড়ির সার্ভিসিং করা
- টায়ারের সঠিক চাপ বজায় রাখা
- অযথা ইঞ্জিন চালু রেখে না রাখা
- সম্ভব হলে গণপরিবহন ব্যবহার করা
- একই পথে গেলে একাধিক কাজ একসঙ্গে সম্পন্ন করা
এসব পদক্ষেপ ব্যক্তিগত জ্বালানি ব্যয় কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
FAQ: বাংলাদেশের তেলের দাম নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
বাংলাদেশে বর্তমানে ডিজেলের দাম কত?
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে বাংলাদেশে ডিজেলের খুচরা দাম ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার।
বাংলাদেশে বর্তমানে অকটেনের দাম কত?
বর্তমানে অকটেনের দাম ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার।
বাংলাদেশে বর্তমানে পেট্রোলের দাম কত?
বর্তমানে পেট্রোলের দাম ১৬০ টাকা প্রতি লিটার।
বাংলাদেশে বর্তমানে কেরোসিনের দাম কত?
বর্তমানে কেরোসিনের দাম ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার।
২০২৬ সালে তেলের দাম কত টাকা বাড়ানো হয়েছে?
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেন—চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।
তেলের দাম কেন বাড়ানো হয়েছে?
সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন বা ফ্রেইট ব্যয় বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
উপসংহার
বাংলাদেশের বর্তমান তেলের দাম ২০২৬ সালে নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—জ্বালানি তেলের দাম শুধু গাড়ির জ্বালানি খরচকেই প্রভাবিত করে না; পরিবহন, কৃষি, শিল্প, পণ্য সরবরাহ এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপরও এর পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে।
তাই আন্তর্জাতিক বাজার ও দেশের সরকারি মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্তের ওপর বাংলাদেশের তেলের দাম ভবিষ্যতেও পরিবর্তিত হতে পারে।
নোট: এই পোস্টের বর্তমান দামগুলো ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর সরকারি মূল্য সমন্বয়ের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপন জারি হলে দাম পরিবর্তিত হতে পারে।








